নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবগঠিত সরকার ইতিপূর্বেই স্কুলের প্যারাটিচারদের (Para Teachers) ভাতা বা বেতন বৃদ্ধির বড় সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই রাজ্যজুড়ে স্কুল ও কলেজের অন্যান্য সমস্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির মেগা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় রাজ্য শিক্ষা বাজেটের জবাবি ভাষণে এই আশ্বাসের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে ‘স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স’ বা ‘স্যাক্ট’ (SACT) এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫৫ হাজার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও কর্মচারীদের বড়সড় আর্থিক সুবিধা মিলতে চলেছে।
এদিন বিধানসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “স্যাক্ট শিক্ষকদের সাম্মানিক বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমাকে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করতে বলেছেন। তবে যে সমস্ত শিক্ষকদের ইউজিসি (UGC) নির্ধারিত যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদেরই বেতন সরাসরি বৃদ্ধি করা হবে। আর যাঁদের সেই নির্দিষ্ট যোগ্যতা নেই, তাঁদের বিষয়ে পৃথকভাবে চিন্তাভাবনা করবে সরকার। কারণ এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের স্নাতকোত্তর বা মাস্টার ডিগ্রিতে ৫৫ শতাংশের কম নম্বর রয়েছে।” উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যে স্যাক্ট-১ ও স্যাক্ট-২ মিলিয়ে ১২ হাজারেরও বেশি কলেজ শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনের মাস্টার ডিগ্রিতে ৫৫ শতাংশের নিচে নম্বর রয়েছে। যদিও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “যাঁদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা নেই, তাঁদের সেই যোগ্যতা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে স্যাক্ট শিক্ষক সংগঠনের নেতা গোপাল ঘোষ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “অধিকাংশ স্যাক্ট শিক্ষকেরই ইউজিসি-র সমস্ত নিয়মমাফিক যোগ্যতা রয়েছে। রাজ্যের ‘এ’ গ্রেডপ্রাপ্ত একাধিক শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলির পঠনপাঠন তো স্যাক্ট শিক্ষকদের ওপর ভর করেই চলছে। বহু ক্ষেত্রে স্থায়ী শিক্ষকদের চেয়ে তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণ। ফলে তাঁদের যোগ্যতার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো যুক্তি নেই।”
পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বিস্তারিত খতিয়ান পেশ করে জানান, রাজ্যের ৩,২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু, ২১ জন স্পেশাল এডুকেটর, সমগ্র শিক্ষা মিশনের ২,১৭৪ জন কর্মী-আধিকারিক, শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের (SSK) ৩০ হাজার শিক্ষক, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের (MSK) ৬,২৯৩ জন শিক্ষাদানে যুক্ত ব্যক্তি, ২৭ জন মুখ্য সম্প্রসারক এবং ৬৬২ জন উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ফাইল অনুমোদন ও চূড়ান্ত বরাদ্দের জন্য নবান্নের অর্থদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অর্থদপ্তর থেকে ইতিবাচক প্রাথমিক সম্মতি মিলতেই এই ঘোষণা করা হলো।
শিক্ষকদের বদলিতে আসছে কড়া নয়া নীতি!
এদিন বিধানসভায় বেতনের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নিয়েও এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান স্কুলশিক্ষামন্ত্রী। দীপকবাবু ঘোষণা করেন, “শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে এবার এক নতুন কড়া নীতি আনা হচ্ছে। কোনো স্কুলের অনুমোদিত মোট পদের অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষক যদি কর্মরত না থাকেন, তবে সেই স্কুল থেকে কোনো শিক্ষকের নতুন বদলির আবেদন গ্রাহ্য করা হবে না। কারণ নির্বিচারে বদলি দিলে গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলি শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়বে।” সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দপ্তর বদলির আবেদন নেওয়ার ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল পুনরার চালু করার পরপরই মন্ত্রীর এই ঘোষণা শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।