নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী করে তুলতে এক বিশাল প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পরিবহণ দপ্তরের কসবা ডিপো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩টি সিএনজি (CNG) এবং ৭টি সর্বাধুনিক ইলেকট্রিক (EV) চালিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) বাসের যাত্রার শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবেশবান্ধব এই ৫০টি নতুন বাস নামাতে রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকারও বেশি।
কসবা ডিপোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই আজ পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক পরিবহণ পরিকাঠামোর রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বাসের সংখ্যা বাড়ানো, জলপথ পরিবহণের সংস্কার, শহরভিত্তিক সিটি মেট্রো পরিষেবা চালু এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট পেশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবহণ সচিব রবি ইন্দার সিংকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন আরও ৪০০টি নতুন বাস কেনার জন্য দ্রুত দরপত্র বা টেন্ডার জারি করতে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্যে আরও ১,০০০টি নতুন সরকারি বাস নামানোর জন্য উপযুক্ত অর্থ মঞ্জুর করবে তাঁর সরকার।
আসানসোল-দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়িতে নিজস্ব ‘সিটি মেট্রো’!
এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে অন্য একাধিক উন্নত রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ দপ্তরের নিজস্ব অধীনে চালু হবে ‘সিটি মেট্রো’ (City Metro) পরিষেবা। তিনি বলেন, “কলকাতা মেট্রো বর্তমানে ভারতীয় রেল পরিচালনা করছে এবং তার সম্প্রসারণের একাধিক প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। তবে রাজ্যের নিজস্ব পরিবহণ দপ্তরের অধীনে আমরা এবার সিটি মেট্রো চালু করব। আমি রাজ্য মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে নির্দেশ দিচ্ছি, বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) বা হাডকো (HUDCO)-কে সঙ্গে নিয়ে এই মেগা প্রজেক্টের ডিটিআর (DTR) দ্রুত তৈরি করুন। প্রাথমিক দফায় আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি করিডোরকে আমরা এই সিটি মেট্রো রুটে যুক্ত করতে চাই।”
পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত ‘রো-রো’ (Ro-Ro) ফেরি সার্ভিস চালুর কথা জানান তিনি।
মহিলাদের জন্য আসছে ‘পিংক কার্ড’!
সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে সমস্ত মহিলা সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের জন্য খুব শীঘ্রই চালু করা হবে ‘পিংক কার্ড’ (Pink Card)। তবে অনেক কর্মজীবী মহিলা বাস ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করতে ইচ্ছুক হওয়ায়, তাঁদের জন্য বিকল্প সম্মানজনক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিনের কসবা ডিপোর হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং পরিবহণ সচিব রবি ইন্দার সিং সহ দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা।