নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা। শনিবার এক লিখিত নির্দেশিকা জারি করে সিপির তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে শহরের রাস্তায় নামছে একটি বিশেষ ‘যৌথ টহলদারি টিম’। এই স্কোয়াডে শামিল থাকছেন দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড, লালবাজার সাইবার থানা, কলকাতা পুলিশের উইমেন সেল, স্থানীয় থানা এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের মহিলা থানার প্রতিনিধিরা। মূলত সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এই বিশেষ বাহিনীর মূল লক্ষ্য। আগামী ২০ জুলাই থেকেই মহানগরের রাজপথে প্রথমবার পথ চলা শুরু করবে এই টিম। প্রথম দিন যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ড এবং সাউথ সিটি মল সংলগ্ন এলাকায় টহল দেবে তারা। শহরবাসীকে সচেতন করতে লিফলেট বিলির পাশাপাশি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও ক্লিপিংও প্রদর্শন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
লালবাজারের এক বিশেষ সূত্রে খবর, শহরবাসীর নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়াতে এই যৌথ টহলদারি টিম গঠনের ভাবনা পুরোপুরি পুলিশ কমিশনারের নিজস্ব মস্তিস্কপ্রসূত। শীর্ষস্তরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও, কলকাতা পুলিশ বাহিনীর অন্দরে কিন্তু এই নিয়ে ইতিমধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের একাংশের মতে, নতুন এই কর্মসূচির জেরে বর্তমান পরিকাঠামোয় ডিউটির চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। কারণ, বর্তমানে কলকাতার সিংহভাগ থানাতেই কনস্টেবলের সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। কর্মী সংকটের জেরে বিভিন্ন থানা এলাকায় সাধারণ টহলদারি কার্যত লাটে ওঠার জোগাড়। যেটুকু নজরদারি চলছে, তার বেশিরভাগটাই সামলাতে হচ্ছে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং হোমগার্ডদের।
সংকট কেবল নিচুতলায় নয়, লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগেও (ডিডি) কর্মী অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। দু’-একটি শাখা বাদে গোয়েন্দা বিভাগের প্রায় সব শাখাতেই সাব-ইন্সপেক্টর বা দারোগার সংখ্যা কমতে কমতে গড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকি, হোমিসাইডের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর শাখাতেও এখন দারোগার সংখ্যা মেরেকেটে মাত্র পাঁচজন! এর মধ্যে আবার দু’জনের পদোন্নতি পেয়ে চলে যাওয়ার কথা। ফলে আগামী দিনে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখার কাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ক্ষোভ জমছে বাহিনীর অন্দরেই।
পুলিশ মহলের বিশেষজ্ঞদের মতে, সোর্স-নেটওয়ার্ক তৈরি করে হাতেকলমে কাজ শিখে একজন পরিপূর্ণ গোয়েন্দা তৈরি হতে কমপক্ষে ৭-৮ বছর সময় লাগে। ফলে রাতারাতি গোয়েন্দা বিভাগে নতুন কোনো এসআই বদলি করলেই এই সংকটের চটজলদি সমাধান সম্ভব নয়। এর ওপর কলকাতার বুকে প্রতিদিন একাধিক রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং, বিক্ষোভ ও ভিআইপি মুভমেন্ট সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। এই অবস্থায় নতুন করে এই ধরণের বাড়তি টহলদারির দায়িত্ব কীভাবে সামলানো সম্ভব, তা নিয়ে বাহিনীর অন্দরেই চোরা ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।