নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৫ আগস্টের পুণ্য লগ্নেই রাজ্যে আসতে চলেছে নতুন ও যুগোপযোগী শিল্পনীতি। বণিকসভা সিআইআই (CII) আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বড়সড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নতুন এই নীতিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় আর্থিক উৎসাহ বা ইনসেন্টিভ (Incentive) দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে কিছুটা বাস্তববাদী সুর টেনেই অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্যান্য রাজ্য যেভাবে ঢালাও ইনসেন্টিভ দেয়, বাংলায় হয়তো হুবহু সেই মাত্রায় তা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে তাঁর জোরালো দাবি, যে পরিমাণ আর্থিক উৎসাহের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, তা রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
রাজ্যের জমি নীতিকেও যে আমূল বদলে ফেলা হচ্ছে, এদিন সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন স্বপনবাবু। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে একটি ল্যান্ড ব্যাংক রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা পুরোপুরি যথাযথ বা আপ-টু-ডেট নয়। ফলে এ রাজ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন কলকারখানার যে বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেগুলিকে পুনর্ব্যবহার করে কীভাবে ফের নতুন শিল্পের কাজে লাগানো যায়, তার জন্য কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।” শুধু তাই নয়, গুজরাত বা হরিয়ানার মতো প্রথম সারির শিল্পোন্নত রাজ্যের জমি নীতিকে মডেল করার ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “গুজরাত বা হরিয়ানায় এমন একটি ল্যান্ড পলিসি রয়েছে, যেখানে যাঁরা শিল্পের জন্য নিজেদের জমি দিচ্ছেন, তাঁদেরও কোনো না কোনোভাবে ওই শিল্পের অংশীদার বা যুক্ত করা হয়। আমাদের এখানেও সেই মডেল কার্যকর করা যায় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে রাজ্য।”
এই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর শোনান। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই বাংলায় ফের পা রাখছেন বিশ্বখ্যাত জাপানি সংস্থা ‘মিৎসুবিসি’ (Mitsubishi)-র শীর্ষ কর্তারা। পূর্ব ভারতে একটি আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট (Semiconductor Unit) গড়ে তুলতে আগ্রহী এই জাপানি জায়ান্ট। আর সেই কারণেই তাঁদের এবার পানাগড় ও দুর্গাপুরে উপযুক্ত জমি পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই মিৎসুবিসির প্রতিনিধি দল একবার কলকাতা ঘুরে গিয়েছেন এবং উপযুক্ত পরিকাঠামোর খোঁজে তাঁরা ভারতের একাধিক রাজ্যও চষে ফেলছেন।
অন্যদিকে, শহরের বুকেই বণিকসভা অ্যাসোচেম (ASSOCHAM) আয়োজিত অপর একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের এমএসএমই (MSME) এবং বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মন শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসার নিয়ে এক বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির ছাদে কীভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বা সোলার প্যানেল বসানো যায়, তার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘পিএম সূর্যঘর, মুফত বিজলি যোজনা’-র মতো পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলিকে বাংলায় যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করা হবে এবং এর ফলে কেন্দ্র সরকারের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্পের বড়সড় সুযোগ ও সুবিধা পাবে বাংলা।”