নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের কাজকর্মে একগুচ্ছ গুরুতর অনিয়মের হদিস পেল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাস্থ্যদপ্তরে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা দিতে শুরু করে। অভিযোগ ছিল, স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের নামে গোপনে উপহারের লেনদেন চলছে এবং কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই সংগৃহীত রক্ত বেআইনিভাবে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। এর পরেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর ঝটিকা হানা দেন তাঁরা।
দপ্তরের আধিকারিকরা প্রথমে উপহারের বিনিময়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজনের তদন্তে নেমে ২টি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের কাজকর্মে চরম গাফিলতি ও অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু তদন্তের পরিধি বাড়াতেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, অনিয়ম কেবল উপহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কলকাতার অন্তত ৭টি বড় বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক রাজ্য সরকারের কোনো প্রকার পূর্বানুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে রক্ত ভিন রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে মোটা টাকার বিনিময়ে পাচার করে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, উদ্বৃত্ত প্লাজমা বিক্রির বিষয়ে রাজ্যের নির্দিষ্ট চারটি সংস্থার সঙ্গে আইনি চুক্তি রয়েছে। এমনকি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে রক্ত পাঠানোর বিষয়ে জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পর্ষদের (NBTC) অত্যন্ত কড়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনামা রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্লাড ব্যাংক যদি ভিন রাজ্যে রক্ত পাঠাতে চায়, তবে প্রথমে তাদের নিজস্ব রাজ্যের রক্ত সঞ্চালন পর্ষদকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। এরপর সেই পর্ষদ যে রাজ্যে রক্ত পাঠানো হচ্ছে, সেখানকার পর্ষদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ করবে। অর্থাৎ, দুটি রাজ্যের সরকারি সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয় ও লিখিত অনুমতির ভিত্তিতেই একমাত্র রক্ত পাঠানো সম্ভব। কিন্তু কলকাতার এই নামী বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলি সেই জাতীয় নিয়মের তোয়াক্কাই করেনি। এই চরম বেআইনি কারবারের প্রমাণ মেলাতেই ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলির সমস্ত নথিপত্র ও রেজিস্টার খাতা বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।