নিউজ ডেস্ক: গত ছ’বছরে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থাকে সচল করতে বিপুল সংখ্যক বাস কিনেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই সমস্ত বাসের ক্রয়প্রক্রিয়া এবং তা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ। গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। সোমবার বিধানসভায় পরিবহণ দপ্তরের বাজেট পেশের সময় বাজেটের ওপর বিশদ আলোচনার জবাবে সরকারি বাস ও নিকাশি ব্যবস্থা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে দলীয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বিধানসভায় অভিযোগ তোলেন যে, বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরকারি বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থে সেই বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটে পুনরায় পরিষেবা চালু করার দাবি জানান তিনি। উত্তরে মন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, বন্ধ থাকা রুটগুলিতে বাস পরিষেবা সচল করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে কিছু বড়সড় প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত সমস্যা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বর্তমানে সরকারি বাসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চালকের বিপুল ঘাটতি রয়েছে। উপরন্তু, পূর্বতন সরকারের আমলে উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি নতুন বাস কিনে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল, যার অনেকগুলিই এখন অকেজো। এই বিপুল অঙ্কের বাস কেনা ও ফেলে রাখার নেপথ্যে কোনো বড় দুর্নীতির ছক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী আরও একটি বিশেষ পরিসংখ্যান দিয়ে উল্লেখ করেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত শতকরা ৫২.৯ শতাংশ মহিলা যাত্রীকে সরকারি বাসে নিখরচায় ভ্রমণ বা ‘ফ্রি-টিকিট’-এর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য রাজ্য সরকারের রাজকোষ থেকে মোট ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর পাশাপাশি মন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, পরিবহণ ক্ষেত্রে আর কোনো ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিলোত্তমার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কলকাতার বুকে পুনরায় ট্রাম চলাচলের সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।