নিউজ ডেস্ক: সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরির মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) পর এবার নামল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বনগাঁ থানায় রুজু হওয়া একটি বিশেষ মামলার তদন্তভার এবার নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় এই এজেন্সি। মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি হস্তান্তরের জন্য ইতিমধ্যেই আদালতে আবেদন জানিয়েছে এনআইএ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে (এনজিও) বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছে। সেই কালো টাকাই ব্যবহার করা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্ট তৈরির কাজে।
অনুপ্রবেশের পর ভারতীয় নথি হাতে পেতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এই দুষ্কৃতীরা। এরপর সেখানে জঙ্গি সংগঠনের ‘স্লিপার সেল’ হিসেবে তারা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছিল বলে খবর। এই চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে কিছুদিন আগেই ইডি এবং উত্তর প্রদেশ পুলিশ যৌথভাবে বনগাঁ, হাড়োয়াসহ উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই এই চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। পরে এনআইএ জানতে পারে, চলতি বছরের মে মাসে এই অনুপ্রবেশ ও নথি জালিয়াতি নিয়ে বনগাঁ থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা দায়ের হয়েছিল এবং স্থানীয় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে এনআইএ।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় থানার কাছে কেস ডায়েরিসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। এই আন্তর্জাতিক চক্রের অন্যতম মূল পাণ্ডা বনগাঁর বাসিন্দা তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা সাহাবউদ্দিন। তার সঙ্গে বাংলাদেশি পাচারকারীদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সীমান্ত পার করিয়ে বাংলাদেশিদের আনার পর সাহাবউদ্দিনের অনুগামীরাই তাদের আশ্রয় দিত। এরপর কলকাতায় নিয়ে গিয়ে তৈরি করা হতো ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র। এমনকি তাদের হাতে নকল ভারতীয় পাসপোর্টও তুলে দেওয়া হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, হাওড়ায় নিয়ে এসে এজেন্টের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে এই জাল নথি তুলে দেওয়া হতো। এরপর তারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করত। এনআইএ এখন এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতি ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ খোঁজ চালাচ্ছ।