নিউজ ডেস্ক: কংক্রিটের শহর থেকে দূরে, প্রকৃতির মুক্ত উঠোনে শিশুদের গুরুমুখী শিক্ষা আর গ্রামীণ কৃষ্টির মেলবন্ধন। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের জঙ্গলমহল ঘেরা গোপালপুর-উল্লাসপুরে এভাবেই কাজ করে চলেছে ‘সহজ আখড়া’। ২০২৩ সালে স্থাপিত এই আশ্রমে মূলত পালিত হয় পরমা প্রকৃতির আরাধনা আর প্রকৃতিযাপনের উৎসব। ফাল্গুনের ‘পঞ্চম দোলে’ সুরের মূর্ছনা আর গাছ পুজোর মধ্য দিয়ে এখানে এক অভিনব পরিবেশ তৈরি হয়।

সারা বছর ধরেই এই আখড়া মহিলাদের নিয়ে গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চায় ব্যস্ত থাকে। হারিয়ে যাওয়া আল্পনা, মালাগাঁথা, সেলাই প্রতিযোগিতা কিংবা গল্পপাঠের আসর— বাংলার চিরায়ত লোকজ প্রথাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাই এখানে মহিলাদের মূল কাজ। উৎসবের তিন দিন ধরে চলে বিশেষ ‘মায়াপ্রকৃতির’ বন্দনা, যেখানে একটি গাছকে অবলম্বন করেই পুজো করা হয়। সমবেত ভক্ত ও গ্রামবাসীদের জন্য থাকে অন্নছত্রের আয়োজন।

দেশীয় বীজ রক্ষার লড়াই: সহজ আখড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় বীজ রক্ষা করা। আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা তথা লেখক রাধামাধব মণ্ডল জানান, আউশগ্রাম এলাকাটি দেশীয় ধানের বীজের জন্য খ্যাত। বর্তমানে এই আশ্রমে ১০৮ রকমের দেশীয় ধানের বীজ সংরক্ষণের কাজ চলছে। কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষার লড়াইয়ে বাউল ও ফকিরি গানের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়। রাধামাধব বাবুর কথায়, ‘‘গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই আমাদের এই সমবেত লড়াই। পরমাপ্রকৃতিই এই আশ্রমের আরাধ্য’’।

প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্রের আলয়ে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া মেজাজকে ফিরিয়ে আনতেই জঙ্গলমহলের এই প্রচেষ্টা এখন অনেকেরই নজর কাড়ছে।

Share on Social Media