নিউজ ডেস্ক: মিনাখাঁয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজির রহস্যমৃত্যুর জট কাটল। তদন্তে নেমে হাড়হিম করা তথ্য পেল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের বামুনিয়া এলাকায় বোমা বাঁধতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় মসিউরের। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের চিহ্ন মুছে ফেলতে এবং পুলিশের চোখ এড়াতে মসিউরের ঝলসে যাওয়া দেহ মাঝরাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালককে গ্রেপ্তার করেছে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার হাড়োয়া থানার ঝুঝুরগাছি এলাকায় মসিউরের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ বসিরহাটের একটি নার্সিংহোমে সুজয় মণ্ডল নামে এক যুবকের খোঁজ পায়, যার একটি হাত বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, মসিউরের নেতৃত্বে মোট ১০ জন বামুনিয়াতে বোমা বাঁধতে গিয়েছিল। মসিউর নিজে বোমা বাঁধায় ‘বিশারদ’ ছিল এবং বিভিন্ন এলাকায় তার ডাক পড়ত। বোমা তৈরির সময়ই আচমকা বিস্ফোরণ ঘটলে মসিউর ও সুজয় সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়।
তদন্তে আরও প্রকাশ, বিস্ফোরণের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে শাসকদলের এক নেতার নির্দেশে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। জখমদের কলকাতার বদলে বসিরহাটের বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পথে মসিউরের মৃত্যু হওয়ায় হাড়োয়া রোডের ধারে তাঁর দেহ ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অ্যাম্বুলেন্সটি। ধৃত চালক রহমত আলি ওরফে সুরজ মোল্লা কবুল করেছে যে, ইতিপূর্বেও সে বিস্ফোরণে আহতদের পারাপার করেছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কোন কোন প্রভাবশালী নেতা জড়িত এবং বাকি আহতরা কোথায় চিকিৎসাধীন, তা খতিয়ে দেখছে বসিরহাট জেলা পুলিশ।