নিউজ ডেস্ক: ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে মহাপ্রলয়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (AAP) বড়সড় ধস নামিয়ে শুক্রবার সপার্ষদ শাসক দল বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা। একা নন, তাঁর সঙ্গে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন আপ-এর আরও ৬ জন রাজ্যসভা সাংসদ। এক লপ্তে ৭ জন সাংসদ দল ছাড়ায় রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির শক্তি কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকল। তবে এই দলবদলের নেপথ্যে যে এক গভীর সাংবিধানিক অঙ্ক কাজ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
দলত্যাগ বিরোধী আইন ও রাঘবের অঙ্ক: রাঘব চাড্ডা-সহ এই ৭ সাংসদের রাতারাতি দলবদল ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন— তাঁদের সাংসদ পদ কি বহাল থাকবে? সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি একযোগে অন্য কোনও দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার (Merger) ঘোষণা করেন, তবে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হয় না। রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদ ছিলেন। রাঘবের সঙ্গে হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল-সহ যে ৭ জন দল ছেড়েছেন, তা মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। ফলে সুকৌশলেই নিজেদের সদস্যপদ রক্ষা করেছেন তাঁরা।
সাংসদদের তালিকা ও প্রতিক্রিয়া: সূত্রের খবর, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে গিয়েছেন সন্দীপ পাঠক, হরভজন সিং, অশোক কুমার মিত্তল, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রমজিৎ সিং সাহনে এবং স্বাতী মালিওয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাঘব চাড্ডা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধানের নিয়ম মেনেই তাঁরা বিজেপিতে মিশে যাচ্ছেন। তবে আইনত রক্ষা পেলেও এই পদক্ষেপের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেহেতু তাঁরা সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং আম আদমি পার্টির মনোনয়নে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন, তাই দলত্যাগের আগে তাঁদের ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক: ৫ রাজ্যের নির্বাচনের আবহে আপ-এর মতো একটি বাড়ন্ত দলকে এভাবে ধাক্কা দেওয়া বিজেপির বড়সড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কেজরিওয়াল শিবিরের জন্য এটি কেবল সাংগঠনিক ক্ষতি নয়, বরং বড় মাপের ‘মুখ পুড়ল’ বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাঘব চাড্ডার মতো চাণক্য বুদ্ধির নেতার এভাবে শিবির বদল দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।