নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জের একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করে চমকে দিয়েছিল আবগারি দপ্তর। এবার সেই ২৭ লক্ষ টাকার ‘মদ-কাণ্ড’ ঘিরে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক চাপান-উতোর। ওই মদ মজুত করার নেপথ্যে খোদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) জেলা সভাপতির হাত রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল বিজেপি। যদিও সেই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন কুৎসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসক শিবির।

কী ঘটেছিল তেজগঞ্জে? গত ২২শে এপ্রিল বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ এলাকায় সুশোভন অধিকারী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয় আবগারি দপ্তর, জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ দল। সেই অভিযানে উদ্ধার হয় ১০১ কার্টুন বিদেশি মদ এবং ৩৬ কার্টুন বিয়ার, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা। ভোটের মুখে এত বিপুল পরিমাণ মদ কোথা থেকে এল এবং কার মদতে মজুত করা হলো, তা নিয়ে শুরু থেকেই দানা বেঁধেছিল রহস্য।

বিজেপির নিশানায় তৃণমূল নেতা: শনিবার এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা। আদালতের একটি নির্দেশের কপি দেখিয়ে তাঁর দাবি, বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের থাকার নাম করে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি তথা আইনজীবী স্বরাজ ঘোষ। অভিজিৎবাবুর অভিযোগ, বাড়ির মালিককে চাপ দিয়ে চাবি নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই বেআইনি মদের কারবার চলছিল। নির্বাচনের সময় অশান্তি পাকানো এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই ছক কষা হয়েছিল বলে দাবি করে স্বরাজ ঘোষের গ্রেফতারি দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।

তৃণমূলের পাল্টা চক্রান্তের অভিযোগ: বিজেপির এই আক্রমণকে পাল্টা বিঁধেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাকবুল ইসলাম জানান, ওই বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা চললেও কোনও চাবি নেওয়া হয়নি বা ভাড়ার চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর দাবি, “ভোটের আগে তৃণমূলের নামে কুৎসা রটাতে এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিজেপি আদালতের নথিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।” চক্রান্তের নেপথ্যে বিজেপি নিজেই রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে শাসক দল।

তদন্তে প্রশাসন: উভয় পক্ষই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আবগারি দপ্তর এবং জেলা পুলিশ খতিয়ে দেখছে, বাড়ির মালিকের বয়ান এবং আদালতের নথিতে কাদের নাম উঠে আসছে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে বর্ধমানের বুকে এই বিপুল মদ উদ্ধার এবং তা নিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগের অভিযোগ নিঃসন্দেহে জেলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Share on Social Media