নিউজ ডেস্ক: কারও গায়ে সাদা পোলো টি-শার্ট, কারও পরনে সাধারণ চেক শার্ট, পায়ে পুলিশের চেনা বুটের বদলে স্নিকার্স। শনিবার সাতসকালে ঠিক এই সাধারণ পোশাকেই দিল্লির যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চে এসে হাজির হয়েছিলেন জনাদশেক ব্যক্তি। তাঁদের সাধারণ চালচলন দেখে অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কিংবা বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি। আন্দোলনকারীরা ভেবেছিলেন, অনশনরত সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে কোনও মেডিক্যাল টিম এসেছে এবং আগন্তুকরাও নিজেদের ডাক্তার বলেই দাবি করেছিলেন। কিন্তু ভুল ভাঙল মুহূর্তের মধ্যেই।
সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আন্দোলনকারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রূপবদল করল সেই ছদ্মবেশী দল। জানা গেল, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন দিল্লি পুলিশের সাদা পোশাকের কর্মী। অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় অসুস্থ সোনামকে একটি বিছানার চাদরে শুইয়ে চ্যাংদোলা করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনা হয়। গোটা অপারেশনের কোনও ভিডিও বা ছবি যাতে বাইরে না আসতে পারে, তার জন্য অনশন মঞ্চ থেকে রাস্তা পর্যন্ত এলাকা সাদা কাপড়ে ঘিরে আড়াল করে দিয়েছিল পুলিশ। সেই আড়ালের মধ্য থেকেই কোনওমতে হাত নাড়েন সোনাম। বাইরে অপেক্ষারত একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে তুলেই সাইরেন বাজিয়ে এলাকা ছাড়ে পুলিশ।
সাতসকালে এমন ফিল্মি কায়দায় সোনাম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র শোরগোল ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সোনামের শারীরিক অবস্থার আরও ভালো মূল্যায়নের জন্য তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ সোনামকে সেখানে আনা হয়। তবে পুলিশ বা মোদি সরকার জোর করে তুলে নিয়ে গেলেও বাস্তবের ‘র্যাঞ্চো’র জেদ ভাঙা যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি সেখানেও কোনও খাবার বা জল মুখে তোলেননি। এমনকি তাঁকে স্যালাইন বা কোনও ওষুধও দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সোনামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই যন্তর মন্তরে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, আগামী সোমবার তাঁদের পূর্বঘোষিত সংসদ ভবন অভিযান ভণ্ডুল করতেই রাতের অন্ধকারে পুলিশ এই হামলা চালাতে পারে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে যন্তর মন্তরের অবস্থান স্থলেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রধান অভিজিৎ দীপকের মুখে এক মহিলা কালি লেপে দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মোদি সরকারকে বিঁধেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘অসত্য বলা এবং হিংসার আশ্রয় নেওয়া মোদি সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি।’’ অন্যদিকে সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট দিচ্ছে না, অন্য ডাক্তারদের দিয়ে সেকেন্ড ওপিনিয়ন নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। শুধু বলা হচ্ছে সোনামের পটাশিয়াম লেভেল নাকি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গিয়েছে। মাত্র একদিনের মধ্যে তা কীভাবে সম্ভব?’’ গীতাঞ্জলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সোনামকে আটকে রাখা হলেও সোমবারের মিছিলে প্রয়োজনে তিনি নিজেই স্বামীর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন।