নিউজ ডেস্ক: রাজ্যবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা বছর ধরে যে সমস্ত জরুরি কর্মসূচি রূপায়িত হয়, তার সিংহভাগই পরিচালিত হয় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) অধীনে। এই সর্বভারতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন কমবেশি ৩৬ হাজার চুক্তিসম্মত কর্মী। এবার তাঁদের জন্যই বড়সড় সুখবর নিয়ে এলো রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতি। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে কর্মরত এই বিপুল সংখ্যক কর্মীদের মাসিক ভাতা এক ধাক্কায় ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-২০২৭ আর্থিক বছরের বাজেট বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করেই এই ভাতাবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকেই রাজ্যের এই ৩৬ হাজার কর্মী বর্ধিত ভাতার সরাসরি সুফল পেতে শুরু করবেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন শাখায় বর্তমানে প্রায় ৪২টি ভিন্ন ধরনের পদে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার, স্পেশালিস্ট ডাক্তার, আয়ুষ চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি হেলথ অফিসার (CHO), সুপারভাইজার, কাউন্সেলার ও ল্যাব টেকনোলজিস্টদের মতো অসংখ্য প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী। সরকারের এই নতুন নির্দেশিকার ফলে এই সমস্ত পদের কর্মীরাই সমভাবে উপকৃত হতে চলেছেন।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপে কর্মীদের একাংশ খুশি হলেও, ভাতাবৃদ্ধির এই পরিমাণ নিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের বহু কর্মীর মধ্যেই চোরা অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে এনএইচএম কর্মীদের একাংশ জানান, “নিজেদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বহু স্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের কাজও আমাদের দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয়। অথচ এত খাটুনির পরেও আমাদের কোনো অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা বা স্থায়িত্ব নেই বললেই চলে।” তাঁদের দাবি, কাজের এই বিপুল চাপের কথা মাথায় রেখে মাসিক ভাতা কিংবা স্থায়ী বেতন যদি আরও কিছুটা পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি করা হতো, তবে তাঁরা প্রকৃত অর্থেই উপকৃত হতেন। তবুও উৎসবের মরশুমের আগে এই ৫০০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি কর্মীদের পকেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।