নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (Mid Day Meal) বণ্টনের পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কলকাতার স্কুলগুলিতে এই দুপুরের আহার তৈরির দায়িত্ব ইসকনের ‘অন্নামৃত ফুড রিলিফ ফাউন্ডেশন’-এর হাতে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের মিড ডে মিল বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই সংস্থাকে একটি ‘লেটার অব অ্যাওয়ার্ড’ (LOA) বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংস্থার অন্যতম ট্রাস্টি যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাসকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিষয়ে সংস্থাকে তাদের চূড়ান্ত মতামত জানাতে হবে। তবে এই দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমান রাঁধুনিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। শর্ত অনুযায়ী, স্কুলগুলিতে বর্তমানে যে সমস্ত রাঁধুনি ও সহায়িকারা কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের কাউকেই কাজ থেকে ছাঁটাই করা যাবে না। তাঁদের নিয়েই ইসকনের এই সংস্থাকে কাজ চালাতে হবে। তবে এই রাঁধুনিদের মাসিক বেতন কিন্তু সরকারই বহন করবে, যা ওই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাঁধুনিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চিঠিতে আর্থিক ও পুষ্টিগত মানদণ্ড নিয়েও বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে শিক্ষা দপ্তর। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য রান্নার যে খরচ (Conversion Cost) নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, ইসকনের সংস্থাকে ঠিক সেই পরিমাণ অর্থই দেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ বা বাড়তি আর্থিক সাহায্য করবে না রাজ্য। পাশাপাশি, সরকারের বেঁধে দেওয়া পুষ্টির পুঙ্খানুপুঙ্খ গুণমান বজায় রেখে পড়ুয়াদের পাতে বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর মেনু তুলে দিতে হবে। খাবারের গুণগত মান ঠিকঠাক থাকছে কি না, তা যাচাই করতে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা নিয়মিত স্কুলগুলিতে আচমকা পরিদর্শন ও পরীক্ষা চালাবেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফাউন্ডেশনকে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বন্ধ কন্টেনারে (Closed Containers) করে রান্না করা খাবার নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলগুলিতে পৌঁছে দিতে হবে। আর এই পরিবহন বা লজিস্টিকসের যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ওই সংস্থাকেই বহন করতে হবে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, আগামী ১ আগস্ট থেকে মিড ডে মিলের বর্ধিত আর্থিক বরাদ্দ কার্যকর হতে চলেছে এবং সেই দিন থেকেই কলকাতার স্কুলগুলিতে খাবার সরবরাহের এই নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে ইসকন।