নিউজ ডেস্ক: হরিদেবপুর এলাকার একটি মাদক বা মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) নিয়ে যাওয়ার পথেই এক ১৬ বছরের কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো। বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মূল অভিযুক্ত চার রিহ্যাব কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মামলা (Murder Case) রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের নাম স্বপন প্রামাণিক, সৌরভ দাস, মনোজিত প্রামাণিক এবং রীতেশ মণ্ডল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোর দীর্ঘদিন ধরে জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। মাঝেমধ্যেই সে বাড়িতে প্রচণ্ড হিংস্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠত, যাকে সামলাতে হিমশিম খেতেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ তাকে হরিদেবপুরের একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। সেই মতো চুক্তি অনুযায়ী রবিবার সন্ধ্যায় ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের চারজন কর্মী একটি গাড়ি নিয়ে কিশোরকে নিতে তার বাড়িতে আসেন। পরিবার তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, মাঝপথে আচমকা অচৈতন্য হয়ে পড়ে কিশোরটি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত একটি নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরই রিহ্যাব সেন্টারের এক কর্মী কিশোরের বাড়িতে ফোন করে এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মারফত খবর পেয়ে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছয় এবং মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত শুরু করে। কিশোরের মা পুলিশে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে অভিযোগ করেন, গাড়িতে তোলার পর থেকেই ওই চারজন কর্মী তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করতে করতে নিয়ে যায়। সেই মারধরের চোটেই গাড়ির ভেতরে তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মা-এর এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশদ্রোণী থানা খুনের ধারায় এফআইআর দায়ের করে রাতারাতি চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, নাকি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ফলেই এই করুণ পরিণতি— তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।