নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক কাজকর্মে চূড়ান্ত স্থবিরতা কাটাতে নজিরবিহীন কড়া নিদান দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পঞ্চায়েত অফিসে না আসা প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, কাজের অজুহাতে কামাই করলে এবার সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশ পাঠিয়ে পঞ্চায়েতে এনে সই করানো হবে।
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পঞ্চায়েত বাজেটের আলোচনার জবাবি ভাষণে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সিংহভাগই বিরোধী দল তৃণমূলের দখলে থাকলেও ‘ডিম থেরাপি’ এবং দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষ বা মারধরের ভয়ে প্রধান সহ অধিকাংশ সদস্যরা অফিসে আসছেন না। এর ফলে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০০০-এর বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে সার্বিক উন্নয়নের কাজ অচল হয়ে পড়েছে। মারাত্মকভাবে ধাক্কা খাচ্ছে ‘ভি বি জি রামজি’ থেকে শুরু করে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নানা কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমুখী প্রকল্প।
বিহ্বল এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রাজ্য বিধানসভায় দিলীপবাবু গর্জে উঠে বলেন, “পঞ্চায়েতে না এলে পুলিশকে দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে এসে সই করাব। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা নিচ্ছেন, মাইনে নিচ্ছেন আর কাজের বেলা অফিসে আসবেন না? এই জিনিস আর বরদাস্ত করা হবে না। হয় ঠিকমতো কাজ করুন, না হয় অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।” তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিমের ভয়ে অফিসে আসছেন না তৃণমূলের জেতা প্রতিনিধিরা, কিন্তু এর মাসুল সাধারণ মানুষকে দিতে হবে কেন? তিন-চার মাস কাজ বন্ধ রাখলে মানুষ পরিষেবা পাবে কী করে? আমরা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত, তার পরেও কেন পঞ্চায়েতে আসবেন না?”
গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেন ও সাধারণ ফাইল সইয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা থাকে প্রধানদের ওপরেই। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনি বদল আনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। চলতি সপ্তাহেই বিধানসভায় এ সংক্রান্ত বিশেষ বিল পেশ করা হতে পারে বলে সংকেত মিলেছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষে পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি দ্রুত পিএসসি (PSC)-র মাধ্যমে পঞ্চায়েতের ১১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ শুরু করে কাজের গতি বাড়িয়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া আগের সরকারের আমলে কাজ করা প্রায় ১ লক্ষ স্বল্পমেয়াদি অস্থায়ী কর্মচারীদেরও বিভিন্ন সরকারি সমীক্ষার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় এনএসএপি (NSAP) প্রকল্পের অধীনস্থ বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর।