নিউজ ডেস্ক: জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আর দালালের চক্করে ঘুরতে হবে না, বা গুণতে হবে না আকাশছোঁয়া ভাড়া। এবার ওলা (Ola) বা উবেরের (Uber) মতোই মোবাইলের একটি অ্যাপে বুক করলেই দোরগোড়ায় হাজির হবে অ্যাম্বুলেন্স। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় স্বাস্থ্য বাজেটের আলোচনায় এমনই এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই বিশেষ অ্যাপ-ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাটি আপাতত কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে চালু করা হবে।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্যক্ষেত্রে, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় দালালরাজ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই স্বাস্থ্য বাজেটের জবাবি ভাষণে এই নতুন অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার রূপরেখা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক ব্যাপক ও কার্যকরী বদল আনবে।” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, এই অ্যাপের জেরে একদিকে যেমন দালালদের কারসাজিতে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হবে, অন্যদিকে তেমনই জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রোগীর আত্মীয়রা সহজেই অ্যাম্বুলেন্সের সঠিক অবস্থান ও পৌঁছনোর সময় জানতে পারবেন।
কীভাবে কাজ করবে এই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ? স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ওলা বা উবেরের মতো অ্যাপে যেভাবে গাড়ি বুক করা হয়, ঠিক একই পদ্ধতিতে এই সরকারি অ্যাপ ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স বুক করা যাবে। তবে এই ক্ষেত্রে কোনও বেসরকারি সংস্থা বা অ্যাপ যুক্ত থাকবে না, এটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব অ্যাপ হবে। এই অ্যাপে নির্দিষ্ট কিলোমিটারের ওপর ভিত্তি করে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পুরোপুরি নির্ধারিত থাকবে। গ্রাহকরা তাঁদের প্রয়োজন মতো ‘অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট’ বা ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’ বা সাধারণ ক্যাটাগরির অ্যাম্বুলেন্সও বেছে নিতে পারবেন। রাজ্যের সমস্ত বৈধ ও রেজিস্টার্ড অ্যাম্বুলেন্সকে এই একটি অ্যাপের আওতায় আনা হবে। এর ফলে যেমন অ্যাপ ছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে না, তেমনই বেআইনিভাবে রেজিস্টার্ড নয় এমন অ্যাম্বুলেন্সের দৌরাত্ম্যও পুরোপুরি ঠেকানো যাবে।
পাশাপাশি, গরিব ও দুঃস্থ রোগীদের জন্য রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত রাখার কথাও ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে এই শয্যা শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের জন্যই বরাদ্দ থাকবে। সোমবার বিধানসভায় ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মোট ২৪ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেট পেশ করেন। এর মধ্যে প্রশাসনিক খাতে ১০,৯৬২ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৩,৭৯২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’র মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৭ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর যাঁরা এই কেন্দ্রীয় বিমার আওতার বাইরে থাকবেন, তাঁদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র মাধ্যমে বছরে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে বলেও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।