নিউজ ডেস্ক: একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গ রাজনৈতিক পারদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলের জনসভার পরদিনই বিধানসভার অধিবেশনে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভায় ভিড় থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্বের চাঁছাছোলা আক্রমণ— বাদ গেল না কিছুই। মঙ্গলবার ধর্মতলার সভা থেকে কালীঘাট শিবির লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতির দাবি করলেও, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী সব মিলিয়ে বড়জোর চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ হাজির হয়েছিলেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, “আমি একটা সাধারণ ব্লকে কর্মসূচি করলেও এর থেকে বহুগুণ বেশি মানুষ জমায়েত হন।”
অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ওপর আলোচনাকালে মমতার বিগত দিনের সমস্ত বক্তব্যের জবাব দেন শুভেন্দু। কালীঘাট শিবিরকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর দায় সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “আপনি আর কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না। আমরা আপনাকে ফিরতেও দেব না। আইন ভেঙে পার পাওয়ার সুযোগ কারও নেই, আপনিও আইনের ঊর্ধ্বে নন।” তৃণমূলের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী সংযোজন করেন, “জোড়া ফুল প্রতীক থাকবে কি না, তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। প্রতীক না থাকলে আপনাকে এবার হয়তো সরষে ফুল আঁকতে হবে! আর চপ খেতে খেতে ফেসবুকেই দিন কাটাতে হবে।” মমতার নিজের বুথ ও ওয়ার্ডের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দুর মন্তব্য, “নিজের বুথ ও ওয়ার্ডেই হেরেছেন, পাশের বাড়ির লোকও ওঁকে ভোট দেয়নি। ওঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করেছি, এবার ওঁর দুর্নীতির সমস্ত প্রমাণ জনসমক্ষে আনব।”
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। ‘ছোঁড়া’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওদের নেতা ডিজে বাজানোর হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু বাংলার মানুষ স্পষ্ট জবাব দিয়ে দিয়েছে। ও তো একটা প্রতিষ্ঠিত চোর, ভবিষ্যতে ও জেলে থাকবে না বাইরে, তা সময়ই বলবে।” একুশের সভা থেকে অভিষেকের হিসেব বুঝে নেওয়ার হুমকির জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “তুমি নিজে বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব নেবে!” একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেককে পুনর্নির্বাচনের খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “গতবার যত ভোটে জিতেছেন, এবার তার চেয়েও বেশি ভোটে হারাব। পুষ্পার থেকেও খারাপ দশা হবে।” তবে বিএসএফ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে যে ডিম ছোঁড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তাকে কড়া ভাষায় ধিক্কার জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিম ছোঁড়া বা বিশৃঙ্খলা বাংলার সংস্কৃতি নয়। তবে অপরাধী তৃণমূল ছাড় পাবে না, পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত সিপিএমকেও রেয়াত করা হবে না।”
এদিকে অধিবেশন কক্ষের ভেতরেও ছড়ায় চরম উত্তেজনা। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে, তাঁর সামনে গিয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন মমতা-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ঋতব্রত ও কালীঘাট দুই শিবিরের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার অবিলম্বে মার্শাল ডেকে কুণাল ঘোষকে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং পুরো দিনের জন্য সাসপেন্ড করেন। কুণালের অভিযোগ, মূল বক্তার তালিকা থেকে চক্রান্ত করে বারবার তাঁর নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘বর্বরোচিত কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করেন।