নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার থেকে নিয়মিত বিধানসভায় পেশ করা হবে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ (CAG)-এর রিপোর্ট। বুধবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে সরব হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকার এই সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলত না। আগামী ২৫ জুলাই বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা হবে এবং পরবর্তীতে অধিবেশন ডেকে সেই রিপোর্টের সুপারিশগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া সুর বজায় রেখে স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ক্যাগের অডিট বা তদন্তে কারও বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে, তবে রাজ্যপালের অনুমতি নিয়ে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, তা তিনি মুখ্যমন্ত্রীই হোন কিংবা মন্ত্রী!”
উম-পুনের ত্রাণের বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দু বলেন, “উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দফায় বিপুল টাকা কেন্দ্রীয় সাহায্য হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ত্রাণ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালতের নির্দেশেই একটি বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন সরকার সেই রিপোর্ট কোনদিন প্রকাশ করেনি বা বিধানসভার টেবিলেও পেশ করেনি। এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাগ যে আইনানুগ ব্যবস্থার সুপারিশ করেছিল, তাও কার্যকর করা হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ হলেই পূর্বতন সরকারের আমলের আসল চেহারা প্রকাশ্যে চলে আসবে।
একইভাবে লোকায়ুক্তের রিপোর্ট পেশ না হওয়া এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সোচ্চার হন শুভেন্দু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। তবে আগামী ১ আগস্ট থেকে এই সমস্ত সাংবিধানিক সংস্থাগুলি ফের পূর্ণ শক্তিতে কাজ শুরু করবে বলে জানান তিনি।