নিউজ ডেস্ক: সুটিয়ার প্রখ্যাত প্রতিবাদী শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে এবার এক মারাত্মক মোড়। ২০১২ সালের এই হাইপ্রোফাইল খুনের মামলায় এবার সরাসরি যুক্ত করা হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। মঙ্গলবার বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের অন্যতম সদস্য তথা মানবাধিকার কর্মী নন্দদুলাল বসু। তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে সরিয়ে দেওয়ার মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তাঁর মূল মদতদাতা ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগে নন্দদুলালবাবু দাবি করেন, পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বরুণ বিশ্বাসকে হত্যা করা হয়েছিল। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার ফলেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে কোনো নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান রাজ্য সরকার অতি দ্রুত এই স্পর্শকাতর খুনের ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু করে প্রকৃত দোষী ও নির্দেশদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন গাইঘাটার সুটিয়ার বাসিন্দা, আদর্শ শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়া জুড়ে চলা ধারাবাহিক খুন, নারী নির্যাতন ও দুষ্কৃতী তাণ্ডবের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ মানুষকে একজোট করে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরিবার ও সহযোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামিয়ে দিতেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশে সুপরিকল্পিতভাবে বরুণ বিশ্বাসকে খুন করা হয়। সম্প্রতি বরুণের পরিবারের সদস্যরা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার ও তদন্তের আকুল আর্জি জানিয়েছিলেন।
অভিযোগকারী নন্দদুলাল বসুর সংযোজন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে সুটিয়া এলাকাকে নরককুণ্ডে পরিণত করেছিল জ্যোতিপ্রিয়র অনুগামী দুষ্কৃতীরা। বরুণ বিশ্বাস সেই সামাজিক অবক্ষয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই তাঁকে বলি হতে হয়। নতুন করে এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সুটিয়া ও সমগ্র বনগাঁ সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।