নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চূড়ান্ত অপরিচ্ছন্ন রূপ দেখে নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাকেন্দ্রে আচমকা পরিদর্শনে যান তিনি। ইনডোর থেকে শুরু করে হস্টেল, আউটডোর কিংবা ট্রমা কেয়ার সেন্টার— হাসপাতালের প্রায় সর্বত্রই জঞ্জাল এবং নোংরা পড়ে থাকতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সাফাইয়ের এই বেহাল দশা দেখে সাফাই কর্মী ও আধিকারিকদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আপাতত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলাম। যদি এর মধ্যে হাসপাতালের ভোলবদল না হয়, তবে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ আর জি কর হাসপাতালে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তিনি হাসপাতালের আনাচ-কানাচ ঘুরে দেখেন। বি সি রায় বিল্ডিং, ট্রমা বিল্ডিং, কার্ডিওলজি, গাইনি বিভাগ থেকে শুরু করে পিজিটি ছাত্র ও ছাত্রীদের হস্টেল— কোনো জায়গাই তাঁর নজর থেকে বাদ যায়নি। পরিদর্শন চলাকালীন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা বহু সাধারণ রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তাঁদের কী কী অভাব-অভিযোগ রয়েছে, তা মন দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “হাসপাতালের সবথেকে ইতিবাচক যে দিকটি আজ আমার চোখে পড়েছে, তা হল এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ (CISF) সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে।” তবে নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন, “কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠটি খুবই অন্ধকার। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা মেনে নেওয়া যায় না। যেখানেই গিয়েছি, অসম্ভব নোংরা পরিবেশ দেখেছি। সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মী ও আধিকারিকদের বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এখনই কোনো কড়া আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে চাইছি না। কিন্তু আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতায় চোখে পড়ার মতো উন্নতি না হয়, তবে মঙ্গল বা বুধবারই আমি কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”