নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচন মিটে গিয়ে সব ভোটকর্মী ঘরে ফিরলেও, ইটাহারের এক প্রাথমিক শিক্ষকের হদিশ না মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গত ২২ এপ্রিল ভোটের ডিউটি করতে উত্তর দিনাজপুর থেকে ইসলামপুর গিয়েছিলেন সুফল মুর্মু (৪৭)। শুক্রবার রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় এবং তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় অপহরণ বা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছে পরিবার। নিখোঁজ ওই ভোটকর্মীর সন্ধানে ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর পরিজনরা।
নিখোঁজ ডায়েরি ও পরিবারের আর্তি: মৃত সুফল মুর্মু ইটাহারের উত্তর জামালপুর এলাকার বাসিন্দা এবং দুর্লভপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। ইসলামপুরে তাঁর ভোটের ডিউটি পড়েছিল। তাঁর স্ত্রী সাবিনা হাঁসদা জানান, “আমার স্বামী ভোটের ডিউটিতে গিয়েছিলেন। বাকি সবাই বাড়ি ফিরে এলেও তিনি এখনও ফেরেননি। বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছি কিন্তু মোবাইল সুইচড অফ দেখাচ্ছে। চারদিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনও হদিশ মেলেনি।” দিশেহারা সাবিনা হাঁসদা শুক্রবার ইটাহার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা: নির্বাচনী ডিউটিতে গিয়ে এক ভোটকর্মীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং নির্বাচন কমিশনকে সব জানানো হয়েছে।” ইসলামপুরের যে বুথে তাঁর ডিউটি ছিল, সেখান থেকে তিনি কবে বা কার সঙ্গে বেরিয়েছেন, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উদ্বেগে সহকর্মীরা: ভোটের আবহে একজন ভোটকর্মীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে তাঁর সহকর্মীদের মধ্যেও। উত্তর দিনাজপুর জেলার ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। সুফলবাবুর সঙ্গে কোনও গোলমাল হয়েছিল কি না, নাকি যাতায়াতের পথে কোনও বিপত্তি ঘটেছে— তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত ওই শিক্ষককে খুঁজে বের করার আশ্বাস দিলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে ইটাহারের ওই পরিবারে।