নিউজ ডেস্ক: বাংলা ভাষার সমকালীন প্রসার, বিকাশ ও সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগী হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় লেখা একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে মাতৃভাষার সার্বিক উন্নয়নে নিজের একাধিক মূল্যবান সুচিন্তিত পরামর্শের কথা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রবিবার কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে দেশের প্রথম ঐতিহাসিক ‘শব্দ জাদুঘর’ (Word Museum)-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুবাবু জানান, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বাংলায় লেখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দিয়েছেন, যেখানে আমাদের মাতৃভাষার মান উন্নয়ন ও আগামী প্রজন্মের কাছে একে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কিছু গঠনমূলক পরামর্শ রয়েছে। আপাতত বিধানসভা অধিবেশন চলছে, তাই এখানে বিস্তারিত বলব না। সোমবার সকালেই বিধানসভায় রাজ্য সরকারের তরফে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন ও বড় ঘোষণা করা হবে।” পরে নিজের ভাষণে অমিত শাহ নিজেই এই চিঠির প্রসঙ্গ টেনে হেসে বলেন, “আশা করব শুভেন্দু ভাই আমার উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে বিশেষ যত্নবান হবেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ করবেন।”
এদিন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগারে ৯টি আধুনিক গ্যালারি সমৃদ্ধ এই ‘শব্দ জাদুঘর’-এর সূচনা হয়। প্রদর্শনী ঘুরে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার জন্য এই গ্যালারি পরিদর্শনের জন্য মাত্র ৫ মিনিট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শব্দের এমন অপূর্ব বিবর্তন দেখে আমি ২৮ মিনিট ধরে ঘুরে দেখেছি। আগামী দিনে আরও আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে ফের এই জাদুঘর দেখতে কলকাতায় আসব।” এদিনের অনুষ্ঠানে ‘শব্দ’ ও ‘ভাষা’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রাঞ্জল বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নেয়। তিনি বলেন, “ভাষাই হলো একটি জাতির সংস্কৃতির সার্বিক বহিঃপ্রকাশ। একটি করে শব্দ জুড়েই তো ভাষার সৃষ্টি। আর সেই উচ্চারণের সঠিকতা বজায় থাকলেই জাতির সংস্কৃতি ও চেতনার প্রকৃত বিকাশ ঘটে।”
ভাষার পর এদিন বিকেলে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অপর একটি মেগা অনুষ্ঠানে অমিত শাহের হাত ধরেই সূচনা হলো এক বিরাট অর্থনৈতিক অধ্যায়ের। হাওড়ার সাঁকরাইলে এশিয়ার বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা ‘আমুল’ (Amul)-এর নতুন কারখানার শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো। গুজরাতের এই সমবায় সংস্থা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এই সুবিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তুলবে, যেখানে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে এবং এটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী কারখানা। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গেও দুটি পৃথক আইসক্রিম কারখানা তৈরি করতে চলেছে আমুল।
রাজনৈতিক সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা নিয়ে আমি মিষ্টিদই দিয়ে বাংলার মানুষকে মিষ্টিমুখ করাতে এসেছি। বিগত কমিউনিস্ট শাসন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের জমানায় সোনার বাংলার যে অপপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, আজ বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফের নতুন করে সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু হলো। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজ্যবাসী এর ইতিবাচক পরিবর্তন উপলব্ধি করতে পারবেন।” এছাড়া, এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের জনপ্রিয় অ্যাপ ‘যাত্রীসাথী’-র সঙ্গে সর্বভারতীয় ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবার সংযুক্তিকরণের জন্য এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যা সাধারণ মানুষকে দেবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক রাইড শেয়ারিং সুবিধা।