নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম। রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি বুথকে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ বা ‘সুপার সেনসিটিভ’ তকমা দিয়ে ভোট করাতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এ বার রাজ্যের প্রায় ৫১ শতাংশ বুথকেই এই অতি-স্পর্শকাতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে জ্ঞানেশ কুমার ও মনোজ আগরওয়ালরা যে নিরাপত্তা ছক সাজিয়েছেন, তাতে বাংলা কার্যত এক মিনি যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নিতে চলেছে। ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ড্রোন, অ্যান্টি-বুলেট ভ্যান এবং ক্যামেরা বসানো বিশেষ টহলদারি গাড়িতে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা রাজ্যকে।
বিগত নির্বাচনগুলিতে দেখা যেত, রাজ্যে বড়জোর ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বুথকে অতি-স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এ বার সেই সংখ্যা এক লাফে ৫১ শতাংশে পৌঁছে যাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিপুল বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ‘এসআইআর’ (SIR) রিপোর্ট। যে সমস্ত বুথের ভোটার তালিকা থেকে ১৫০ বা তার বেশি নাম বাদ পড়েছে, সেই সব বুথকেই এ বার ‘সুপার সেনসিটিভ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। কমিশনের আশঙ্কা, নাম বাদ যাওয়ার কারণে ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ থেকে বড়সড় গোলমাল হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই নিরাপত্তার এই বজ্র আঁটুনি।
এ বার উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি সবচেয়ে বেশি। বিশেষত প্রথম দফার ভোটেই মুর্শিদাবাদের প্রায় ৮০ শতাংশ বুথই অতি-স্পর্শকাতর। এ ছাড়া মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে এই হার প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং কোচবিহারে ৪৬ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদের দু’টি পুলিশ জেলাতেই মোতায়েন করা হচ্ছে ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে জঙ্গিপুরে থাকবে ৭৬ কোম্পানি এবং মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা। সব মিলিয়ে প্রথম দফার নির্বাচনে ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ৪০ হাজার ৯২৮ জন রাজ্য পুলিশ।
অতি-স্পর্শকাতর বুথগুলির জন্য জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই ১১ দফার একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন। নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের অন্তত সাত দিন আগে থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারকে (SP) যৌথভাবে এই বুথগুলি পরিদর্শন করতে হবে। কুইক রেসপন্স টিম (QRT) পৌঁছনোর রাস্তায় কোনও বাধা আছে কি না, তা আগেভাগেই খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকাগুলিতে যাতে কোনওভাবেই বেআইনি অস্ত্র বা বহিরাগত যানবাহন ঢুকতে না পারে, তার জন্য নাকা চেকিং ও ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে কমিশন। সব মিলিয়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে এ বার লোকসভা নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।