নিউজ ডেস্ক: দশ মিনিটে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। দেরি হলেই জোটে কুকথা আর আর্থিক জরিমানা। বিজ্ঞাপনের এই চাকচিক্যের আড়ালে যে কত বড় মরণফাঁদ লুকিয়ে রয়েছে, তার প্রমাণ মিলল মালদায়। ‘টার্গেট’ পূরণ আর গ্রাহকদের দুর্ব্যবহারের চাপে মানসিক অবসাদে ভুগে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বছর চব্বিশের পূজা পাল। বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিপল্লির বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
মধ্যবিত্ত সংসারের লড়াই ও শেষ পরিণতি: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূজা কলেজের পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে ফুড ডেলিভারির কাজ শুরু করেছিলেন। বৃদ্ধ বাবা-মা আর দাদাকে নিয়ে টানাটানির সংসার। বাড়তি দু’পয়সা রোজগারের আশায় লোন নিয়ে একটি স্কুটিও কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন পূজা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শোষণের বিজ্ঞাপন বনাম বাস্তব: বোনের এই পরিণতির জন্য সরাসরি ফুড ডেলিভারি সংস্থা ও কাজের চাপকেই দায়ী করেছেন পূজার দাদা চন্দন পাল। তাঁর অভিযোগ, “খাবার পৌঁছে দিতে একটু দেরি হলেই অনেকে কুকথা বলতেন। কোম্পানির কড়া নিয়ম আর গ্রাহকদের গালিগালাজ নিয়ে ও প্রায়ই মন খারাপ করত। হয়তো সেই অপমান আর অবসাদই ওকে কেড়ে নিল।” গত দু’দিন শরীর খারাপের জন্য পূজা কাজেও যাননি। সেই সময়ও কোনও মানসিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তদন্তে পুলিশ: শুক্রবার মৃত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ হালদার। তিনি জানান, মেয়েটি অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। মালদা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই পূজার ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কল হিস্ট্রি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে গিগ ইকোনমির এই অমানবিক চাপ একজন শিক্ষিত তরুণীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।