নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে নতুন সোনার দোকানের পথচলা শুরু হয়েছিল ধুমধাম করে। কিন্তু উদ্বোধনের প্রথম দিনেই ঘটল এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর কেপমারির ঘটনা। দোকান থেকে নিমেষের মধ্যে গায়েব হয়ে গেল প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের পান্না, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান রত্নসামগ্রী। প্রথম দিনেই এমন বড়সড় ধাক্কা খেয়ে কার্যত মাথায় হাত পড়েছিল দোকান মালিকের। তবে শেষরক্ষা হলো না। চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে দুর্গাপুর থেকে গ্রেফতার করল বেহালা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে রথযাত্রার দিন উদ্বক্ষোনী অফার হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়েছিল বেহালার ওই নতুন অলঙ্কার বিপণিটি। সেই প্রলোভনে পা দিয়েই স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে বেহালায় ক্রেতা সেজে হাজির হয়েছিলেন বছর চল্লিশের প্রভাত দেবনাথ। দোকানে তখন উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে রত্নসামগ্রী দেখার অছিলায় পান্না, রুবি, মুক্তোর মতো মূল্যবান রত্নগুলি হাতিয়ে নেন ওই ব্যক্তি। এরপর কাউন্টার থেকে মাত্র কয়েকটি মুক্তো কিনে, অনলাইনের মাধ্যমে হাজার পাঁচেক টাকা মিটিয়ে দিয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে দোকান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
রাত বাড়লে দোকানের বেচাকেনা শেষে কর্মচারীরা যখন ‘স্টক’ মেলাতে বসেন, তখনই তাঁদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, স্টক থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার বহুমূল্য রত্ন উধাও! তড়িঘড়ি বিষয়টি মালিককে জানানো হলে, তিনি বেহালা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই দোকানের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তাতেই ওই ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে তদন্তকারীদের।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে চোরের সূত্রও মিলল ডিজিটাল মাধ্যমেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি কেনাকাটার পর ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা মিটিয়েছিলেন। সেই পেমেন্ট ডিটেইলস খতিয়ে দেখেই পুলিশ তাঁর মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পায়। সেই টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের বাড়িতে হানা দেয় বেহালা থানার পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় প্রভাত দেবনাথকে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই খোয়া যাওয়া রত্নসামগ্রীর একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার দুপুরে ধৃতকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তাকে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই চক্রের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।