নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না লালবাজার। এবার ভোটের ডিউটিতে পুলিশ কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বড়সড় শর্ত চাপাল কলকাতা পুলিশ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১০০ শতাংশ শারীরিকভাবে সক্ষম বা ‘ফিট’ পুলিশ কর্মীদেরই কেবল নির্বাচনের ময়দানে নামানো যাবে। অসুস্থ বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন কোনও কর্মীকে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ডিউটিতে পাঠানো যাবে না। শুক্রবারই বিভিন্ন ডিভিশনের কাছে এই কড়া বার্তা পাঠিয়েছে সদর দপ্তর।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: কলকাতায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ। শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বুথ সামলানোর পূর্ণ দায়িত্ব কলকাতা পুলিশের কাঁধে। লালবাজার সূত্রে খবর, শহরের কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর এবং কোথায় অশান্তির ইতিহাস রয়েছে, তার তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা নিজেই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রতিটি ডিভিশন থেকে পুলিশ কর্মীদের নামের তালিকা শনিবার সকালেই লালবাজারে পৌঁছনোর কথা। সেই তালিকার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কে কোথায় ডিউটি করবেন।
অসুস্থ কর্মীদের নিয়ে কড়াকড়ি: লালবাজারের কর্তাদের যুক্তি, গোলমাল দেখা দিলে অসুস্থ বা শারীরিক সক্ষমতা কম এমন কর্মীদের কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এবার শুধুমাত্র ‘ফিট’ ফোর্স ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও জটলা দেখলেই তা দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলে যাতে নিমেষের মধ্যে অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছাতে পারে, তার জন্য থানাগুলিকে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের ভয় দেখালেই কড়া ব্যবস্থা: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে লালবাজার। প্রচার শেষ হওয়ার পর বহুতল আবাসন বা দোরে দোরে গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর আশঙ্কা থাকে। কর্তাদের নির্দেশ, ভোটারদের ওপর কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি বা ভয় দেখানোর অভিযোগ পেলেই যেন সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। লালবাজারের এই রণকৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছে, শহরের প্রতিটি বুথে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নয় কলকাতা পুলিশ।