নিউজ ডেস্ক: পণের দাবিতে গৃহবধূকে ক্রমাগত অত্যাচার ও মৃত্যুর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক সাজা শোনাল আদালত। মানিকতলা থানা এলাকার মুরারিপুকুর রোডের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত স্বামী বিশ্বজিৎ রায় এবং শাশুড়ি শ্যামলী রায়কে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিলেন বিচারক। শুক্রবার শিয়ালদহের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক পর্ণা ভট্টাচার্য এই রায় ঘোষণা করেন। সাজার পাশাপাশি দু’জনকেই দশ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দু’মাস হাজতবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মানিকতলা মুরারিপুকুর রোডে শ্বশুরবাড়ি থেকে অসীমা রায় নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তিন বছর আগে বিশ্বজিতের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল অসীমার। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য তাঁর ওপর চলত অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ। মেয়ের বাবা গৌতম প্রামাণিক জামাই ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মানিকতলা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অসীমা কয়েকবার বাপের বাড়ি চলে এলেও পরে তাঁকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি।
আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া: তদন্তে নেমে পুলিশ স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে। শাশুড়ি জামিন পেলেও বিশ্বজিৎ রায় জেল হেফাজতেই ছিলেন। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি তপন রায় জানান, বিচার চলাকালীন মোট ১৮ জন সাক্ষী দেন। পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত নিশ্চিত হয় যে, পণের দাবিকৃত অত্যাচারের জেরেই অসীমার মৃত্যু হয়েছে। বিচারক বিভিন্ন ধারায় পৃথক সাজা দিলেও জানিয়েছেন, সমস্ত সাজা একসঙ্গেই চলবে।
পরিবারের আর্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: এদিন সাজা ঘোষণার পর এজলাসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শাশুড়ি শ্যামলী রায়। অন্যদিকে, মৃতার বাবা গৌতম প্রামাণিক তাঁর মাতৃহীন নাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে দোষীদের সাজা হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে নিহতের পরিবার। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আপাতত সাজাপ্রাপ্ত দু’জনকেই জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।